সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে ইউরোর মূল্যের উত্থান অত্যন্ত দুর্বল ছিল। মূলত, 1.1114–1.1267-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যেও ইউরোর মূল্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্যভাবে এবং অনিচ্ছার সাথে উপরের দিকে
সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে ইউরোর মূল্যের উত্থান অত্যন্ত দুর্বল ছিল। মূলত, 1.1114–1.1267-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যেও ইউরোর মূল্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্যভাবে এবং অনিচ্ছার সাথে উপরের দিকে ওঠার চেষ্টা করছে। সুতরাং, ইউরোর পক্ষে অনেক ইতিবাচক উপাদান বিদ্যমান থাকলেও, ট্রেডাররা যদি তা কিনতে আগ্রহী না হয়, তবে কোনো ধরনের বৃদ্ধি বা প্রবণতা (trend) দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সোমবারের উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনের মধ্যে মার্কিন ISM ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই আলোচনার সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আমরা দেখছি না; সম্ভবত এটি শান্তি প্রতিষ্ঠার আরেকটি আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা মাত্র। ফলে, ইউরো তেমন কোনো জোরালো সহায়তা পায়নি। এছাড়া আজ যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার ফলাফল সম্ভবত আগামীকাল রাতে জানা যাবে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে খুব একটা অনিশ্চয়তা না থাকলেও, এই ঘটনার কারণে মার্কেটে অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।

সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, তবে দিনের মধ্যে অস্থির ও অনিশ্চিত মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে; এমনকি ট্রেডাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ISM সূচকের ফলাফলও উপেক্ষা করেছে। এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.1198–1.1218 এরিয়া অতিক্রম করলেও আর উপরে উঠতে পারেনি এবং মঙ্গলবার রাতে পুনরায় এই রেঞ্জের নিচে নেমে আসে। এখনও ধারাবাহিকভাবে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না এবং গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলোর আগে ট্রেডাররা সতর্ক ও দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে, যদিও ফ্ল্যাট রেঞ্জের মধ্যেই মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে; সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোর মূল্যের কার্যকর কোনো কারেকশন হতে দেখা যায়নি, তবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক মাসের সার্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, টানা এক মাস ধরে এভাবে ইউরোর দরপতন হওয়ার কথা ছিল না। বর্তমানে মার্কিন ডলার ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং ইউরোর পক্ষে বিদ্যমান অনেক ইতিবাচক মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1104–1.1114-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1104–1.1114, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। মঙ্গলবারের উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংক্রান্ত JOLTS প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে এই প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে বলে মনে হয় না। আজ তার সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যেই ট্রেডিং অব্যাহত থাকবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।